মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
Logo নতুন রিক্সা পেয়েছেন নামাজরত অবস্থায় রিক্সা হারিয়ে যাওয়া সেই সাইদার মোঃ সাইদুল ইসলাম নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ রংপুর জেলার তারাগন্জ উপজেলার হাড়িয়ার কুঠি এলাকার দিনমজুর সাইদার রহমান। বয়সের ভারে আগের মতো আর অন্যের জমিতে দিনমজুরীর কাজ ঠিকমতো করতে পারে না।তাই চিন্তা ভাবনা করে কিস্তির উপড় টাকা নিয়ে ব্যাটারীচালিত একটি রিক্সা ক্রয় করেন। পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার তুলে দিতে নিজ এলাকা থেকে ২২/২৩ কিঃমিঃ দুরত্বে রংপুর শহরে গমন করেন, প্রতিদিন কিছু ইনকাম করার জন্য। প্রতিদিনের ন্যায় সেদিন ও গিয়েছিলেন রংপুর শহরে রিক্সাটি নিয়ে। সারাদিন রিক্সা চালানোর পরে নিজ বাড়িতে আসার মুহূর্তে ইশা’র নামাজ আদায় করতে যান রংপুরস্থ কেরামতিয়া মসজিদে। রিক্সাটি তালাবদ্ধ করে তিনি নামাজের উদ্দেশ্য গমন করেন মসজিদের ভেতরে।যখন তিনি নামাজ শেষ করে বাহিরে আসেন, ঠিক সেই মুহুর্তেই হাউ মাউ করে আওয়াজ করে কাঁদতে শুরু করেন।মুসল্লীগণ এবং পথচারীরা এগিয়ে এসে কারণ জানতে চাইলে অসহায় সাইদার রহমান বলেন-“মোর কপাল চুরি করি নিয়া গেইচে/মুই কি করিম এখন” ইত্যাদি বাক্য! অতপর প্রশাসন/মিডিয়ায় ঘটনাটি প্রচার হয়ে যায়। পরবর্তীতে, HDT ও হামরা রংপুরের ছাওয়া গ্রুপ এর প্রচেষ্টায় নতুন রিক্সা ক্রয় করা হয়। রিক্সার পাশাপাশি,চাল- ডাল, মাংস ইত্যাদি ১ মাসের জন্য বাজার করে দেয়া হয়েছে। রিক্সা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন কর্মী, মুহাম্মদ মোরশেদুল হক, হিলফুল ফুজুল এর প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ লামীম ইসলাম। এবং দেলোয়ার হোসেন সহ আরো অনেকে। সবশেষে উপস্থিত ব্যক্তিগণ,HDT এর প্রতিষ্ঠাতা নাসির উদ্দিন হাওলাদার এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। Logo পটিয়া বাইপাসের নতুন বাস স্টেশন সংলগ্ন চত্বরকে শাহচান্দ আউলিয়া চত্বর নামকরণের দাবিতে স্মারকলিপি Logo ডোমারে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo হুইপ পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার প্রতিবাদে পটিয়ায় শ্রমিকলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ Logo ডোমারে স্বপ্নের ঘর বুঝে পেলেন ২০০টি ভূমিহীন – গৃহহীন পরিবার Logo বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ডোমার উপজেলা শাখা সাত সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত Logo সুলতানপুর বাড়াই পাড়া ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠে পালিত হলো ঈদুল ফিতরের ঈদের জামাত Logo শিশুকে বাচাতে বলি হলেন শিশুর বাবা Logo ঠাকুরগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ Logo তুচ্ছ ঘটনার জের সাতকানিয়া চরতী সন্রাসী হামলায় মহিলাসহ আহত-৪

রিনিকের মেডিকেলে চান্স পাওয়ার গলর

সেরা খবর ডেস্ক / ১০৭ বার পঠিত
সময় : শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রিনিকের মেডিকেলে

চান্স পাওয়ার গলর

……………………………………..

সেলিম চৌধুরী পটিয়াঃ- ছোটবেলা থেকেই রিনিকের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার, সাদা অ্যাপ্রোন গায়ে জড়ানোর। অবশেষে রিনিকের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ বগুডায় চান্স পেয়ে।চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের শওকত হোসেন হারুন ও শামীমা আকতারের ছোট ছেলে আতাউল করিম রিনিক এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক পিতার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। অত্যন্ত মেধাবী রিনিক ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখা করতে ভালোবাসে। মেধাবী এই ছাত্র এলাকার দৌলতপুর এম আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন-এ প্লাস ও বৃত্তি পেয়ে পিএসসিতে সফলতার সহিত উত্তীর্ণ হয়। এরপর দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসি উভয় পরীক্ষায় গোল্ডেন-এ প্লাস ও বৃত্তি পায়। স্কুলের সবাই একনামে চিনে তাকে। স্যার-ম্যামদের প্রিয় রিনিক। তারপর সে ভর্তি হয় গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজে। কলেজের দূরের ছাত্র ছিল সে। আধাঘণ্টা রাস্তায় হেঁটে আরও দেড়ঘণ্টা গাড়িতে চড়ে চন্দনাইশের আসতে হতো তাকে প্রতিদিন।রিনিকের ভাষ্যমতে, স্যার-ম্যাম আর বন্ধুদের আদর ভালোবাসায় কোনো কষ্টই মনে হতো না তার। রিনিকের প্রিয় বিষয় ছিল গণিত। স্যাররা বোর্ডে একদিকে প্রশ্ন লিখতেন আর অন্যদিকে তার অংক করা শেষ হয়ে যেত। একদিন তো তার এক বন্ধু স্যারকে জিজ্ঞাসা করে- স্যার রিনিক এত তাড়াতাড়ি লিখে ফেলে কীভাবে?

সে স্কুল ও কলেজ জীবনে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, লয়ার, প্রোগ্রামার, ম্যাথমেটিশিয়ান আরও কত কিছুই হওয়ার স্বপ্ন দেখত। তবে সাদা অ্যাপ্রোনের মায়া উপেক্ষা করতে পারেনি সে। অত্র কলেজ থেকে এবছর রিনিকই একমাত্র মেডিকেল চান্স পাওয়া শিক্ষার্থী। কোনো মেডিকেলে কেউ আছেন বলেও জানা নেই। তাই চান্স পাবে কিনা- এ ভয়টা কলেজের সবার মতো তারও হতো না এমন নয়। কলেজ লাইফটা ছিল তার কাছে স্বপ্নের মতো। কলেজের প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া, প্রিন্সিপাল স্যার থেকে শুরু করে সব স্যার-ম্যামরা এবং তার বান্ধুরা অনেক অনেক বেশি আদর করতেন তাকে। সব সময় মোটিভেট করতেন। রিনিক কোনোদিন মন খারাপ করে থাকলে স্যার-ম্যামরা জিজ্ঞাসা করতেন- কী হয়েছে রিনিক মন খারাপ কেন? তুমি কি অসুস্থ? এ জিনিসগুলো যে কত বড় পাওয়া!

পিতা-মাতার আদরের ছেলে রিনিক। তারা কখনো পড়ালেখা করতে চাপাচাপি করেননি। ইনফ্যাক্ট তার আম্মু আব্বু বলতেন এত পড়তে হবে না। মেডিকেলে না হলে আরও অনেক ভার্সিটি আছে। কোনো চাপ নেয়ার দরকার নেই। রেজাল্টের আগের দিন রাতেও বুঝিয়ে বলেছেন অন্য কোথাও পড়াবেন সমস্যা নেই। সব সময় সাপোর্ট করতেন তাকে; যা চাইতো উনাদের কাছে তার চেয়েও বেশি দিতেন। রিনিক বলেছেন, আমি মনে করি কলেজ লাইফেই অ্যাডমিশনের রুট গড়ে নেওয়া উচিত। আর এতে আমার সম্মানিত স্যাররা, আম্মু-আব্বু আমাকে সর্বোচ্চ সাহায্য করেছেন। উনাদের দোয়া ও মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমি মেডিকেলে চান্স পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। রিনিক সবার কাছে দোয়া চেয়ে জানান, মহান আল্লাহর ইচ্ছায় সে যেন একজন ভালো ডাক্তার হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে সবার সেবা ও পেশাদারি দায়িত্ব পালন করতে পারেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

নতুন রিক্সা পেয়েছেন নামাজরত অবস্থায় রিক্সা হারিয়ে যাওয়া সেই সাইদার মোঃ সাইদুল ইসলাম নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ রংপুর জেলার তারাগন্জ উপজেলার হাড়িয়ার কুঠি এলাকার দিনমজুর সাইদার রহমান। বয়সের ভারে আগের মতো আর অন্যের জমিতে দিনমজুরীর কাজ ঠিকমতো করতে পারে না।তাই চিন্তা ভাবনা করে কিস্তির উপড় টাকা নিয়ে ব্যাটারীচালিত একটি রিক্সা ক্রয় করেন। পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার তুলে দিতে নিজ এলাকা থেকে ২২/২৩ কিঃমিঃ দুরত্বে রংপুর শহরে গমন করেন, প্রতিদিন কিছু ইনকাম করার জন্য। প্রতিদিনের ন্যায় সেদিন ও গিয়েছিলেন রংপুর শহরে রিক্সাটি নিয়ে। সারাদিন রিক্সা চালানোর পরে নিজ বাড়িতে আসার মুহূর্তে ইশা’র নামাজ আদায় করতে যান রংপুরস্থ কেরামতিয়া মসজিদে। রিক্সাটি তালাবদ্ধ করে তিনি নামাজের উদ্দেশ্য গমন করেন মসজিদের ভেতরে।যখন তিনি নামাজ শেষ করে বাহিরে আসেন, ঠিক সেই মুহুর্তেই হাউ মাউ করে আওয়াজ করে কাঁদতে শুরু করেন।মুসল্লীগণ এবং পথচারীরা এগিয়ে এসে কারণ জানতে চাইলে অসহায় সাইদার রহমান বলেন-“মোর কপাল চুরি করি নিয়া গেইচে/মুই কি করিম এখন” ইত্যাদি বাক্য! অতপর প্রশাসন/মিডিয়ায় ঘটনাটি প্রচার হয়ে যায়। পরবর্তীতে, HDT ও হামরা রংপুরের ছাওয়া গ্রুপ এর প্রচেষ্টায় নতুন রিক্সা ক্রয় করা হয়। রিক্সার পাশাপাশি,চাল- ডাল, মাংস ইত্যাদি ১ মাসের জন্য বাজার করে দেয়া হয়েছে। রিক্সা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন কর্মী, মুহাম্মদ মোরশেদুল হক, হিলফুল ফুজুল এর প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ লামীম ইসলাম। এবং দেলোয়ার হোসেন সহ আরো অনেকে। সবশেষে উপস্থিত ব্যক্তিগণ,HDT এর প্রতিষ্ঠাতা নাসির উদ্দিন হাওলাদার এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নতুন রিক্সা পেয়েছেন নামাজরত অবস্থায় রিক্সা হারিয়ে যাওয়া সেই সাইদার মোঃ সাইদুল ইসলাম নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ রংপুর জেলার তারাগন্জ উপজেলার হাড়িয়ার কুঠি এলাকার দিনমজুর সাইদার রহমান। বয়সের ভারে আগের মতো আর অন্যের জমিতে দিনমজুরীর কাজ ঠিকমতো করতে পারে না।তাই চিন্তা ভাবনা করে কিস্তির উপড় টাকা নিয়ে ব্যাটারীচালিত একটি রিক্সা ক্রয় করেন। পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার তুলে দিতে নিজ এলাকা থেকে ২২/২৩ কিঃমিঃ দুরত্বে রংপুর শহরে গমন করেন, প্রতিদিন কিছু ইনকাম করার জন্য। প্রতিদিনের ন্যায় সেদিন ও গিয়েছিলেন রংপুর শহরে রিক্সাটি নিয়ে। সারাদিন রিক্সা চালানোর পরে নিজ বাড়িতে আসার মুহূর্তে ইশা’র নামাজ আদায় করতে যান রংপুরস্থ কেরামতিয়া মসজিদে। রিক্সাটি তালাবদ্ধ করে তিনি নামাজের উদ্দেশ্য গমন করেন মসজিদের ভেতরে।যখন তিনি নামাজ শেষ করে বাহিরে আসেন, ঠিক সেই মুহুর্তেই হাউ মাউ করে আওয়াজ করে কাঁদতে শুরু করেন।মুসল্লীগণ এবং পথচারীরা এগিয়ে এসে কারণ জানতে চাইলে অসহায় সাইদার রহমান বলেন-“মোর কপাল চুরি করি নিয়া গেইচে/মুই কি করিম এখন” ইত্যাদি বাক্য! অতপর প্রশাসন/মিডিয়ায় ঘটনাটি প্রচার হয়ে যায়। পরবর্তীতে, HDT ও হামরা রংপুরের ছাওয়া গ্রুপ এর প্রচেষ্টায় নতুন রিক্সা ক্রয় করা হয়। রিক্সার পাশাপাশি,চাল- ডাল, মাংস ইত্যাদি ১ মাসের জন্য বাজার করে দেয়া হয়েছে। রিক্সা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন কর্মী, মুহাম্মদ মোরশেদুল হক, হিলফুল ফুজুল এর প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ লামীম ইসলাম। এবং দেলোয়ার হোসেন সহ আরো অনেকে। সবশেষে উপস্থিত ব্যক্তিগণ,HDT এর প্রতিষ্ঠাতা নাসির উদ্দিন হাওলাদার এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD